মহিলা দলের সহসভাপতির বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট দখল ও প্রতারণার অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
সাবেক স্বামীর মামলা, দুই বিয়ে ঘিরে আইনি প্রশ্ন—বিএনপি নেত্রী জেবা আমিনাকে নিয়ে বিতর্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সহসভাপতি ও ব্রিটিশ নাগরিক জেবা আমিনা আহমেদের বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট দখল, প্রতারণা, পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ এবং দুই বিয়ে ঘিরে আইনি জটিলতার অভিযোগ উঠেছে। তার সাবেক স্বামী ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজন অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন সময়ে আইনি জটিলতা ও নথিপত্রের অসঙ্গতির সুযোগ নিয়ে তিনি সম্পত্তি দখল ও আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জেবা আমিনা আহমেদ এসব দাবি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
সংশ্লিষ্ট একাধিক মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
দুই বিয়ে ঘিরে আইনি প্রশ্ন
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেবা আমিনা আহমেদ ১৯৮৩ সালের ১৫ জুলাই যুক্তরাজ্যে নিয়াজ বিন করিমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। নথি অনুযায়ী তাদের বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয় ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি।
অভিযোগ রয়েছে, ওই বিচ্ছেদের আগেই তিনি ২০০৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে এসে আবাসন ব্যবসায়ী ও রিহ্যাবের সাবেক সভাপতি মোকাররম হোসেন খানের সঙ্গে দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী বৈধ বিবাহ বিদ্যমান থাকা অবস্থায় পুনরায় বিবাহ করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বলেন,
“যদি পূর্বের বিবাহ আইনগতভাবে নিবন্ধিত থাকে, তাহলে বিচ্ছেদও আইনি প্রক্রিয়ায় হতে হবে। তা না হলে দ্বিতীয় বিবাহ আইনি জটিলতার মুখে পড়তে পারে।”
সাবেক স্বামীর মামলা
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মোকাররম হোসেন খান ঢাকার সিএমএম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং ৩৪৬/১৭)।
তার অভিযোগ, বিয়ের সময় জেবা আমিনা প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের দাবি করলেও কোনো দালিলিক প্রমাণ দেখাতে পারেননি। পরে জানা যায়, দ্বিতীয় বিয়ের প্রায় দুই বছর পর প্রথম স্বামীর সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়।
বারিধারার ফ্ল্যাট দখলের অভিযোগ
মোকাররম হোসেন খানের অভিযোগ, বিচ্ছেদের পরও জেবা আমিনা বারিধারা ডিপ্লোমেটিক এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট আইনি জটিলতার সুযোগ নিয়ে দখলে রেখেছেন।
তার দাবি, একটি কোম্পানি সংক্রান্ত মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কো) আদেশকে ভিত্তি করে ওই ফ্ল্যাটে অবস্থান করছেন জেবা আমিনা।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের জুনে তার অনুপস্থিতিতে বারিধারার বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ তুলে ঢাকার সিএমএম আদালতে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে (মামলা নং ৩৫১৬/২৫)।
পারিবারিক সম্পত্তি নিয়েও বিরোধ
গুলশান-২ এলাকায় তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়েও জেবা আমিনার সঙ্গে পরিবারের অন্য সদস্যদের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরিবারের কয়েকজন সদস্যের দাবি, ওই সম্পত্তির ওপর নির্মিত ভবনের ফ্ল্যাট থেকে পাওয়া ভাড়া দীর্ঘদিন ধরে এককভাবে ভোগ করছেন তিনি।
লন্ডনের ব্যবসা নিয়ে বিতর্ক
লন্ডনে অবস্থানকালে জেবা আমিনা ও তার প্রথম স্বামী যৌথভাবে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক সংকটে পড়ে এবং লিকুইডেশন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বন্ধ হয়ে যায় বলে জানা গেছে।
১৯৮৩ সালে যুক্তরাজ্যে প্রথম বিয়ে
২০০৫ সালে বাংলাদেশে দ্বিতীয় বিয়ে
২০০৭ সালে প্রথম স্বামীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ডিভোর্স
সাবেক স্বামীর করা মামলা (৩৪৬/১৭) আদালতে বিচারাধীন
বারিধারার ফ্ল্যাট দখল ও হামলার অভিযোগে নতুন মামলা (৩৫১৬/২৫)
পারিবারিক সম্পত্তি নিয়েও বিরোধ
১৯৮৩ — যুক্তরাজ্যে নিয়াজ বিন করিমের সঙ্গে বিয়ে
২০০৫ — বাংলাদেশে এসে দ্বিতীয় বিয়ে
২০০৭ — প্রথম স্বামীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ডিভোর্স
২০১৭ — দাম্পত্য বিরোধের জেরে বিচ্ছেদ
২০২৫ — বারিধারার বাসভবনে হামলার অভিযোগে মামলা
অভিযুক্তের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে জেবা আমিনা আহমেদ বলেন,
“প্রথম স্বামীর সঙ্গে আমাদের মৌখিকভাবে তালাক হয়েছিল। ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী ইদ্দত পার হলে নারীর পুনরায় বিয়ে করার সুযোগ আছে। পরে ২০০৭ সালে আদালতের মাধ্যমে ডিভোর্স সম্পন্ন হয়।”
লন্ডনের কোম্পানি বিষয়ে তিনি বলেন,
“ওটা দেউলিয়া হয়নি, বরং লিকুইডেশনের মাধ্যমে বন্ধ হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আনা অন্যান্য অভিযোগ সঠিক নয়।”
মন্তব্য করুন