গাজীপুরের শ্রীপুরে নিখোঁজের তিন মাস পর কাঠ ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামান সরকার আসাদের (৫০) অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে কাপাসিয়া-রাজেন্দ্রপুর সড়কের উপজেলার পারুলী নদীর পুরাতন ব্রিজের নিচের পরিত্যক্ত টিনের ঘর থেকে ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করা হয়। শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সঞ্জয় সাহা লাশ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামান সরকার আসাদ শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের মিটালু গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি রাজাবাড়ী বাজারে কাঠের ব্যবসা করতেন। নিহতের ছেলে জনি সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সঞ্জয় সাহা বলেন, ভোর রাতে রাজাবাড়ী বাজার এলাকায় স্থানীয় এক বাড়ীতে চোর প্রবেশ করে। এসময় বাড়ীর লোকজন টের পেয়ে এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে চোরকে ধাওয়া দিলে ওই সড়কের রাজাবাড়ী বাজারের পারুলী নদীর পুরাতন ব্রিজের নিচ দিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। হঠাৎ চোর চোখের আড়ালে চলে গেলে তারা ধারনা করে ব্রিজের নিচের পরিত্যক্ত টিনের ঘরে চোর লুকিয়ে থাকতে পারে। পরে চোরকে খোঁজতে গিয়ে ঘরের মধ্যে ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামান সরকার আসাদের অর্ধগলিত লাশ দেখতে পায় এলাকাবাসী। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে থেকে ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে।

তিনি আরো বলেন, লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে কাঠ ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামান সরকার আসাদের স্বজনেরা ঘটনাস্থলে আসে। পরে তার ছেলে জনি সরকার (২৫) এবং সানজিদা আক্তার (২১) লাশের গায়ে থাকা গেঞ্জি এবং পড়নের লুঙ্গি দেখে তাদের বাবার লাশ বলে শনাক্ত করে।

নিহতের ছেলে জনি সরকার জানান, চলতি বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে তার বাবা নিখোঁজ হয়। সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার বাবার সন্ধান না পেয়ে একদিন পর ২৫ সেপ্টেম্বর শ্রীপুর থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তাবে তার বাবাকে কারা, কেন এবং কি কারনে হত্যা করে লাশ ব্রিজের নিচের পরিত্যক্ত টিনের ঘরে ফেলে রেখেছে তারা জানেন না। তার বাবার সাথে কারো কোন বিরোধ ছিল বলে তাদের জানা নেই।

শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সঞ্জয় সাহা বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে দুর্বৃত্তরা আনুমানিক ২০-২৫ দিন আগে ব্যবসায়ীকে অজ্ঞাত কোনো স্থনে হত্যা করে লাশ ব্রিজের নিচের পরিত্যক্ত টিনের ঘরে ফেলে রাখে। হত্যার কারণ এবং হত্যাকারীদের চিহ্নিত করতে পুলিশ কাজ করছে।

#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}