২০৩০ সালের মধ্যে ৭৬০ বিলিয়ন ডলারের জিডিপি অর্জনে বন্দর ও লজিস্টিকস অবকাঠামো সম্প্রসারণ জরুরি। লজিস্টিকস ব্যয় ১ শতাংশ কমলে রফতানি প্রায় ৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে
বাংলাদেশের বাণিজ্য প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, বিনিয়োগ প্রবাহ ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে লজিস্টিকস খাতের কাঠামোগত সংস্কার ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী ও উন্নয়ন সহযোগীরা। এ লক্ষ্য সামনে রেখে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) ঢাকার ওয়েস্টিন হোটেলে ‘লজিস্টিকস খাতের প্রেক্ষাপট নির্মাণ: প্রতিবন্ধকতা, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক অংশীজনভিত্তিক আলোচনা সভার আয়োজন করে।
আলোচনায় অ্যামচ্যামের লজিস্টিকস খাতের সদস্যদের পাশাপাশি রফতানি-প্রস্তুত পোশাক, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিং, ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো, শিপিং লাইন, এয়ারলাইনস, কুরিয়ার সার্ভিস ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর পল ফ্রস্ট ও এগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে এরিন কোভার্ট উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে অ্যামচ্যাম বাংলাদেশের সভাপতি ও লজিস্টিকস খাতের বিশেষজ্ঞ সৈয়দ এরশাদ আহমেদ বলেন, সরবরাহ শৃঙ্খল সচল রাখা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে লজিস্টিকস খাতের ভূমিকা মৌলিক ও অপরিহার্য। সময়ের সঙ্গে কিছু অগ্রগতি হলেও বাংলাদেশের লজিস্টিকস খাত এখনো বৈশ্বিক মানদণ্ডের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম. মাসরুর রিয়াজ বলেন, লজিস্টিকস ব্যয় কমানো, সরবরাহের গতি ও দক্ষতা বাড়ানো বাণিজ্য প্রতিযোগিতা সক্ষমতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে ৭৬০ বিলিয়ন ডলারের জিডিপি অর্জনে বন্দর ও লজিস্টিকস অবকাঠামো সম্প্রসারণ জরুরি। লজিস্টিকস ব্যয় ১ শতাংশ কমলে রফতানি প্রায় ৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। তিনি জাতীয় লজিস্টিকস নীতির বাস্তবায়ন ঘাটতি, রেল ও এয়ার কার্গোতে সরকারি একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের দুর্বলতা এবং কেন্দ্রীয় লজিস্টিকস কর্তৃপক্ষের অভাবের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি ঢাকা–চট্টগ্রাম করিডরের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাকে ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করে কোল্ড চেইন ও রেল লজিস্টিকসে বেসরকারি ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
সিএফ গ্লোবালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুবুল আনাম বলেন, ই-কমার্সনির্ভর এক্সপ্রেস লজিস্টিকসের চাহিদা বাড়ার প্রেক্ষাপটে সময়-সংবেদনশীল চালান ব্যবস্থাপনা ও দক্ষ কুরিয়ার সেবার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ পরিবহন বিশেষজ্ঞ নুসরাত নাহিদ ববি বলেন, ২০২২ সাল থেকে শুরু হওয়া লজিস্টিকস সংস্কারের গতি নতুন সরকারের স্পষ্ট অগ্রাধিকার ও উচ্চপর্যায়ের ঐকমত্যের মাধ্যমে এগিয়ে নেয়া জরুরি।
মন্তব্য করুন