টুংগীপাড়া পৌরসভার বাড়ছে সেবার মান, সন্তোষ প্রকাশ করেছে সাধারণ সেবা গ্রহিতারা
রনী আহম্মেদ,নিজস্ব সংবাদদাতা –
জনপ্রতিনিধি না থাকলেও গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া পৌরসভায় নাগরিক সেবা কার্যক্রম সচল রয়েছে। জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ, প্রত্যয়নপত্রসহ বিভিন্ন সেবা এখন পৌর কার্যালয় থেকেই দেওয়ার ব্যবস্থা থাকায় নাগরিকদের ভোগান্তি কমেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
পৌরসভা সূত্র ও সেবা নিতে আসা কয়েকজন নাগরিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে বিভিন্ন কাগজপত্রে স্বাক্ষর ও অনুমোদনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিশনারদের কাছে যেতে হতো। এখন অনেক সেবাই পৌর কার্যালয় থেকে সম্পন্ন হওয়ায় একাধিক স্থানে যাওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে না।
পৌরসভা সূত্র জানায়, গত ২ এপ্রিল পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহির উদ্দিন দায়িত্ব নেওয়ার পর দাপ্তরিক কার্যক্রমে সময়ানুবর্তিতা ও নাগরিক সেবায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কর্মকর্তাদের দাবি, নির্ধারিত অফিস সময়ের পরও প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা দেওয়া হচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার পর পৌরসভা কার্যালয়ে গিয়ে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহির উদ্দিন ও পৌর উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইমরান হোসেনকে নিজ নিজ দপ্তরে কাজ করতে দেখা যায়। তখনও পৌর কার্যালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রম চলছিল।
এর আগে পৌর নির্বাহী প্রকৌশলী শাহিনুজ্জামান দায়িত্বে থাকার সময় বিকেল ৪টার পর অনেক ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের পাওয়া যেত না—এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তবে এ বিষয়ে শাহিনুজ্জামানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, সম্প্রতি একটি ফেসবুক আইডি থেকে অভিযোগ করা হয়, পৌরসভার কর্মকর্তারা দুপুর ১২টার পর অফিসে থাকেন না। তবে ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার পর সরেজমিনে কর্মকর্তাদের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ওই অভিযোগের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো নাগরিকের বক্তব্য বা নথিভুক্ত অভিযোগ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহির উদ্দিন বলেন, “আমি সকাল ৯টার আগেই অফিসে আসি এবং সন্ধ্যার পর অফিস থেকে বের হয়ে বাসায় যাই। কে বা কারা এসব লিখেছে, তা আমার জানা নেই।”
পৌর উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইমরান হোসেন বলেন, “পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা জহির উদ্দিন দায়িত্ব নেওয়ার পর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ দিদারুল আলমের তত্ত্বাবধানে আমরা সন্ধ্যা পর্যন্ত অফিসে থেকে নাগরিকদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।”
পৌরসভার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জনপ্রতিনিধি না থাকলেও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় নাগরিক সেবা চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৌরসভার কার্যক্রম নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলোর যথাযথ ভিত্তি আছে কি না, তা যাচাই করে দেখা প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন