সনি হত্যা মামলায় সাজাভোগে শেষে ‘অস্ত্র বাণিজ্যে’ জড়ান টগর: র্যাব
নিজস্ব প্রতিবেদক
সনি হত্যা মামলায় সাজাভোগে শেষে ‘অস্ত্র বাণিজ্যে’ জড়ান টগর: র্যাব।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী সাবেকুন নাহার সনি হত্যা মামলায় কারাভোগ শেষে মুক্তির পর অবৈধ অস্ত্রের কারবারে জড়িয়েছিলেন মুশফিক উদ্দীন টগর।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর আজিমপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৩। এ সময় তার কাছ থেকে অস্ত্র-গুলি ছাড়াও দুটি মুখোশ উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে ৩২ এমএম ১টি রিভলবার, ১টি ম্যাগাজিন, ১টি কাঠের পিস্তলের গ্রিপ, ১৫৫ রাউন্ড .২২ রাইফেলের গুলি, ০১টি ৭.৬২ এমএম মিসফায়ার গুলি, ১টি শর্টগানের খালি কার্তুজ, মানুষের মুখায়বের দুটি মুখোশ ও ২টি মোবাইল জব্দ করা হয়।
র্যাব বলছে, সীমান্তবর্তী এলাকা হতে অবৈধভাবে অস্ত্র সংগ্রহ করে ঢাকায় এনে বিভিন্ন মানুষকে সরবরাহ করতেন টগর।
র্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, টগরকে গ্রেপ্তারে প্রথমে আমরা সনি হত্যার বিষয়টা মূল্যায়ন করিনি। আমরা অস্ত্র উদ্ধারে গিয়েছিলাম, পরে অবগত হই তিনি ওই মামলার আসামি।
সনি হত্যা মামলায় টগর প্রথম গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ২০০২ সালের ২৪ জুন। সাজাভোগের পর টগর ২০২০ সালের ২০ অগাস্ট কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান। কারামুক্তির পর থেকে তিনি ‘স্বাভাবিক জীবনযাপন করছিলেন’ বলে জানান র্যাব কর্মকর্তা আরেফীন।
উল্লেখ্য, ২০০২ সালের ৮ জুন বুয়েটে দরপত্র নিয়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান কেমিকৌশল বিভাগের ৯৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী সনি।
দীর্ঘ আন্দোলনের পর আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। বিচারে নিম্ন আদালতে মুকি, টগর ও নুরুল ইসলাম সাগরের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয় আদালত। ২০০৬ সালের ১০ মার্চ হাই কোর্ট তাদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বাতিল করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। এ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এসএম মাসুম বিল্লাহ ও মাসুমকে খালাস দেয় হাই কোর্ট।
মন্তব্য করুন