বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
হজ্জ প্রশিক্ষণ-২০২৬
একনজরে হজ্জ তামত্তু
—
হজ্জ বলা হয় ৫ দিনে ৫ স্থানে ৯ কাজ করা। ৩টি ফরজ ৬টি ওয়াজিব।
পাঁচ দিন হচ্ছে জিলহজ্জ মাসের ৮-১২ তারিখ।
পাঁচ স্থান হচ্ছে – মিনা, আরাফা, মুজদালিফা, জামারাত ও বাইতুল্লাহ।
তিন ফরজ হচ্ছে – এহরাম, উকূফে আরাফা ও তাওয়াফে জিয়ারত।
ছয়টি ওয়াজিব হচ্ছে – উকূফে মুজদালিফা, সাফার মারা, কুরবানী করা, মাথা মুড়ানো, তাওয়াফে জিয়ারতের সাথে সাঈ করা ও বিদায় তাওয়াফ করা।
—
১। হজ্জ তামত্তু এর পরিচয় : একই সফরে উমরা করে, পরে নতুন এহরামে হজ্জ করা।
২। প্রয়োজনীয় সামানপত্র সংগ্রহ করা : কাপড়, ব্যাগ, পাথরের ব্যাগ, জুতার ব্যাগ, পানি আনার ব্যাগ, এহরামের কাপড়, সেডল ইত্যাদি।
৩। এহরামের জন্য প্রস্তুতি : তুল, মোচ, পশম কাটা, গোসল করা ইত্যাদি।
৪। সফর কিভাবে হচ্ছে জেনে নেওয়া। আগে মক্কা শরীফ না মদিনা শরীফ গমন।
৫। শুধু উমরার নিয়তে এহরাম বাঁধা। দুই রাকাত নামাজ পড়া। নিয়ত করা। তালবিয়া পড়া। নারীরা সাধারণিক কাপড় পরেই এহরামের নিয়ত করবেন।
৬। এহরামের নিষিদ্ধ কাজ সমূহ : তুল, নখ, পশম না কাটা। কোন প্রাণী হত্যা না করা। মাথা, মুখ, চেহারা ও পায়ের পাতা না ঢাকা। সুগন্ধি, আতর, সুগন্ধি সাবান এবং সুগন্ধি টিস্যু ব্যবহার না করা।
৭। কাবা শরীফ দেখার পূর্ব পর্যন্ত বিশুদ্ধ উচ্চারণে তালবিয়া পাঠ করতে থাকা।
৮। পূর্ণ সফরে সবর করা, অশ্লীল কথা/কাজ, ঝগড়া না করা। কোন ধরনের পাপ কাজ না করা।
৯। মক্কা শরীফ পৌঁছে প্রয়োজনে বিশ্রাম করা। এহরাম পাক থাকলে সময় বুঝে কাবা শরীফে যাওয়া।
১০। কাবা শরীফ দেখার সাথে সাথে তালবিয়া বন্ধ করা ও দোয়া করা।
১১। হাজরে আসওয়াদকে চুমু দিয়ে বা হাতের ইশারায় চুমু দিয়ে তাওয়াফ শুরু করা। তাওয়াফ শুরুর নিয়ম/পদ্ধতি সাত চক্করে ইজতেবা করা (ডান কাঁধ উন্মুক্ত রাখা) এবং প্রথম তিন চক্করে রমল করা (বীরদর্পে হেলে দুলে চলা)। রুকনে ইয়ামানীতে হাতে স্পর্শ করা।
১২। তাওয়াফ শেষে ২ রাকাত নামাজ পড়া। নির্ধিক সময় হলে পরে পড়া। (মাকামে ইব্রাহিমের পেছনে সম্ভব না হলে হেরেম শরীফের যে কোন স্থানে)।
১৩। যমযমের পানি পান করা। মাথা ও চেহারায় লাগানো।
১৪। সাঈ করার জন্য যাওয়া। সাফা থেকে দোয়া করে শুরু করে মারওয়াতে শেষ। সবুজ বাতিতে পুরুষের দৌড়। নারীরা সাধারণিক হেঁটে হেঁটে যাবেন।
১৫। মাথার চুল মুড়ানো বা ছোঁট করা। নারীরা অর্ধ ইঞ্চি চুল কেটে নিবে।
১৬। হালাল হয়ে মক্কা শরীফে অবস্থান করা। বেশি বেশি তাওয়াফ, তিলাওয়াত, নামাজ ইবাদত, দোয়া, কান্না করা ইত্যাদি।
১৭। হজ্জের জন্য এহরাম। ৭ই জিলহজ্জ বাসা থেকে এহরাম বেঁধে হেরেমে এসে নামাজ পড়ে হজ্জের নিয়তে তালবিয়া পাঠ করা। এখন থেকে বড় শয়তানকে পাথর মারার পূর্ব পর্যন্ত সকল স্থানে তালবিয়া পাঠ চলবে।
১৮। ৭ তারিখ সকালের পর থেকে মিনায় গমন।
১৯। ৮ তারিখ সকালের পর থেকে আরাফায় গমন। ৯ তারিখে যোহরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফায় অবস্থান করা ফরজ। মসজিদে নামিরাতে ইমামের সাথে হলে যোহর-আসর এক সাথে আদায় করা অন্যথায় সময় মতো নিজ তাবুতে নামাজ পড়ে নেওয়া।
২০। সূর্যাস্তের পর মুজদালিফার দিকে গমন। গাড়িতে না পায়ে হেঁটে। পৌঁছে মাগরিব-এশা একসাথে পড়ে ৭০টি কংকর সংগ্রহ করা। ঘুম থেকে উঠে ভোর বেলায় উঠে ইবাদত করা।
২১। সূর্য উদয়ের পর মুজদালিফা থেকে মিনার দিকে রওয়ানা।
• ১০ জিলহজ্জ ৪ কাজ :
ক) শুধু বড় শয়তানকে ৭টি পাথর খ) দম শোকার কুরবানী গ) মাথা মুড়ানো ঘ) তাওয়াফ ও সাঈ করা।
২২। ১০ তারিখেই মক্কা শরীফ থেকে মিনায় চলে আসা, ১১ ও ১২ তারিখে তিন শয়তানকে ৭টি করে পাথর মারা। যোহরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত (প্রথমে ছোট, পরে মাঝারি এবং পরে বড় শয়তানকে পাথর মারতে হবে)।
২৩। ১২ তারিখ সূর্যাস্তের পূর্বে পাথর মেরে মিনা ত্যাগ করা।
২৪। মক্কা শরীফে পূর্ণ হালাল হয়ে এবাদত করতে থাকুন।
২৫। বিদায়ী তাওয়াফ করে মদিনা শরীফ অথবা দেশে ফিরে আসুন।
• উমরার নিয়ত বাংলায় : হে আল্লাহ আমি উমরাহ পালনের নিয়ত করছি। আপনি আমার জন্য তা সহজ করে দিন এবং আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করুন।
• হজ্জের নিয়ত বাংলায় : হে আল্লাহ আমি হজ্জ পালনের নিয়ত করছি। আপনি আমার জন্য তা সহজ করে দিন এবং আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করুন।
জিয়ারতে মদিনা মুনাওয়ারা
১। পূর্ণ সফরে ও অবস্থানের সময় মুহাব্বতের সাথে বেশি বেশি দরুদ শরীফ পাঠ করা।
২। মদিনা শরীফ পৌঁছে বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হওয়া। আতর সুগন্ধি লাগিয়ে আদবের সাথে মসজিদে উপস্থিত হওয়া।
৩। মসজিদে প্রবেশের পর দুই রাকাত দুখুলুল মসজিদ নামাজ পড়ে নেওয়া।
৪। খুবই আদবের সাথে সালাম দেওয়ার জন্য যাওয়া। সামান্য আওয়াজে সালাম বলা। প্রথমে রাসূলুল্লাহ (সা.) এর কবর শরীফে। তারপর হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) তারপর হযরত উমর (রা.) এর কবরে সালাম।
৫। জুতা সেডল আলাদা রাখা। কথা নিন্ম স্বরে বলা।
৬। মদিনা শরীফের সব কিছুকে ভাল ও মুহাব্বতের দৃষ্টিতে দেখা।
৭। ৪০ ওয়াক্ত নামাজ তাকবির উলার সাথে মসজিদে নববীতে পড়তে সচেষ্ট থাকা।
৮। জান্নাতুল বাকীতে সকলের জন্য সালাম পেশ করা ও ইসালে সওয়াব করা।
৯। রিয়াজুল জান্নাহ প্রবেশের জন্য নিবেদন করুন। সময় মতো লাইন ধরে ধৈর্যের সাথে প্রবেশ করুন।
১০। সম্ভব হলে প্রতিদিন সকালে ফজরের পর মসজিদে কুবায় গিয়ে দুই-চার রাকাত ইশরাক নামাজ পড়া। পায়ে হেঁটে গেলে ৩১০ নং গেইট থেকে সোজা রাস্তা বানানো আছে।
প্রচার :
তাবলীগ সুন্নাহ বাংলাদেশ
ও
দাওয়াতুস সুন্নাহ বাংলাদেশ
মন্তব্য করুন