জনবল সংকটে খুড়িয়ে চলছে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
রনী আহম্মেদ, গোপালগঞ্জ সংবাদদাতা –
জনবল সংকটে, বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার ভিতর দিয়ে খুঁড়িয়ে চলছে কোটালীপাড়া উপজেলার ১০০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ।
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নতি হলেও বাড়েনি সেবার মান।
কর্মকর্তা-কর্মচারী কম থাকায় চিকিৎসা দিতে ব্যার্থ হচ্ছে হাসপাতার কতৃপক্ষ।
পর্যাপ্ত ডাক্তার ও নার্স না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সেবা নিতে আসা রুগীদের ।
এসব দেখেও যেন না দেখার ভান করে বসেছিল বিগত সরকারের আমলা ও নেতা নেত্রী বর্গ ।
২০২৩ সালে হাসপাতালে দুটি লিফট বসানো হলেও লিফট অপারেটরের অভাবে বর্তমানে লিফটের সেবা একেবারেই বন্ধ ও অকার্যকর ।
এক কোটি টাকার বিশাল আকৃতির জেনারেটর থাকলেও লোডশেডিং এর সময় কোন কাজে আসেনা জেনারেটরটি।
কোটালীপাড়া উপজেলা সংবাদদাতা রনী আহমেদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য ।
সিনিয়র কনসালটেন্ট / জুনিয়র কনসালটেন্ট মজুরিকৃত পদ ২১ পদায়নকৃত ০৫,শুন্য পদ ১৭ শতাংশ।মেডিকেল অফিসার ও সহকারী সার্রজন ৪২পদায়নকৃত ১০, শুন্যপদ ৩৩ শতাংশ। মাঠ কর্মচারী সংখ্যা ৬৩ পদায়নকৃত ৩৬, শুন্যপদ ২৭ শতাংশ। এই শুন্যপদ থাকার কারনে সেবা বঞ্চিত হচ্ছে সাধারন রোগীরা , এমনটাই দাবি করছেন হাসপাতাল কতৃপক্ষ।
হাসপাতালে সর্বমোট ওয়ার্কিং এরিয়া ৮৫০০০ হাজার বর্গফুট। রাজস্ব খাতে মাএ ৩ জন পরিছন্নতাকর্মী, আউটসোসিং মাধ্যমে জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় হাসপাতলটি পরিষ্কার পরিছন্নতা রাখাটা সম্ভব হয়না।
রাজস্ব খাতে মাএ এক জন নিরাপওা কর্মী থাকয় ৮৫০০০ হাজার বর্গফুট এরিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করাটাও কঠিন হয়ে পড়ে। প্রতিনিয়ত চুরি হচ্ছে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম , ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে হাসপাতালের জরুরি সেবা।
গাইনি এন্ড অবস্ সার্জারী বিভাগে দীর্ঘদিন যাৎবত পদায়ন কৃত পদ থাকা সত্বেও শুন্য রয়েছে এখনও গাইনি ও সার্জারী সেবা বঞ্চিত জনসাধারণ। এক্স-রে, এমআর আই, আল্ট্রটাসোনোগ্রফি এগুলোর পর্যাপ্ত মেকানিজম থাকা সত্বেও টেকনোসিয়ানের অভাবে অচল অবস্থায় পড়ে আছে হাসপাতালে।
দরিদ্র মানুষের বাড়তি টাকা দিয়ে বাহিরে ব্যঙের ছাতার মত গড়ে ওঠা ডায়াগোনিষ্টিক সেন্টার থেকে সেবা নিতে হচ্ছে, যেটা খুবই নিম্নমান ও ব্যয়বহুল।
সরকারি এ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ আছে তিনটি যার ২ টির ইঞ্জিন নষ্ট। ১ টি দিয়ে গোপালগঞ্জ পর্যন্ত যাতায়াত করতে পারে, কাগজ পত্রও সঠিক না থাকার কারণে দূরের কোন মেডিকেল কলেজে হসপিটালে রোগীদের সেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ।
ভুক্তভোগী জনসাধারণ বলেন, আমরা এখানে সেবা নিতে এসে রোগীরা প্রতিনিয়ত সেবা বঞ্চিত হচ্ছি, প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাক্তার ও নার্স না থাকার কারণে ।
বিশেষ করে সিজারের ব্যবস্থা থাকা সত্বেও কোন সিজার এখান পর্যন্ত হয়নি বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
নোংরা পরিবেশ, বন্ধ লিফট, অকাজো এম্বুলেন্স, অস্বাস্থ্যকর বেষ্ট ফিডিং কর্নার, আল্ট্রসোনোগ্রাম নামমাত্র হাসপাতালের কোন কিছুই সঠিকভাবে কাজে আসছেনা।
এক কোটি টাকার মৃত জেনারেটর, বিদ্যুতের লোডশেডিং এর সময় নাই কোন বিদ্যুৎ সেবা। শুধু শুধু পড়ে থেকে এক কোটি টাকার জেনারেটর ও যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে সরকারের। এ দায় মূলত কাদের বুঝতে পারছে না জনগণ।
অক্সিজেনের লাইন থাকা সত্বেওকোন রুগির মিলছে না কাঙ্ক্ষিত অক্সিজেন ।
সাধারণ রোগী এই সকল বিষয়ের সঠিক সমাধানের আশায় দিন গুনে যাচ্ছে।
সেবা নিতে আসার রোগীরা আরো বলছিলেন,আমরা নেতা নেত্রী বুঝিনা, আমরা শুধু একটাই বুঝি, আমরা যাহারা কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবা নিতে আসি, তারা যেন সঠিকভাবে সেবা নিয়ে সুস্থ থাকতে পারি। সরকার জেন আমাদের সেই স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি নিশ্চিত করে ।
এই বিষয়ে কোটালিপাড়া উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ কুমার মৃদুল দাসের কাছে জানতে চাইলে বলেন আমার হাসপাতালে পর্যপ্ত ডাক্তার, নার্স,ল্যাব এসিস্ট্যান্ট, আউটসোসিং জনবল, পরিচ্ছনাতা কর্মী, নিরাপওা কর্মী না থাকার কারনে আমরা প্রতিনিয়ত সেবা দিতে ব্যার্থ।
আমি এই বিষয়ে গোপালগঞ্জ সিভিল সার্জন তথা টুঙ্গিপাড়া -কোটালিপাড়া (৩) আসনের সাংসদ সদস্য এস এম জিলানী সহ যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি।
আশা করছি তারা অতি দ্রুত এর একটি সুন্দর সমাধান করবেন।
০৮/০৬/২০২৬ ই
০১৭১৬১৫০৯১২
মন্তব্য করুন