স্টাফ রিপোর্টার- পিরোজপুর
পিরোজপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে পৃথক তিনটি শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ সোহেল মনজুর সুমন বলেছেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শুধু একজন রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয়তাবাদের অন্যতম সাহসী ঘোষক ও সংগঠক। তাঁর ঐতিহাসিক আহ্বান, রণাঙ্গনে নেতৃত্ব এবং দেশপ্রেমিক চেতনা মুক্তিযুদ্ধকে বেগবান করেছিল। তাঁর সাহসী ভূমিকা না থাকলে স্বাধীনতার পথ আরও দীর্ঘ ও কঠিন হয়ে উঠত।”
শনিবার সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত পিরোজপুর সদর, কাউখালী, স্বরূপকাঠি পৌর এলাকা ও মিয়ারহাট বন্দর পৃথক পৃথক তিনটি শোকসভা, দোয়া মাহফিল ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, দেশ ও জনগণের কল্যাণে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ছিল উৎপাদনমুখী রাজনীতি, আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গঠন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। সেই আদর্শ বাস্তবায়নে বিএনপির নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমানের জীবন ছিল ত্যাগ, দেশপ্রেম ও নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস জুগিয়েছিলেন এবং যুদ্ধকালীন সময়ে সম্মুখভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। দেশের মানুষ আজও তাঁর অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।” মন্ত্রীকৃত পৃথক তিনটি অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের কথা তুলে ধরে এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন পিরোজপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন। এছাড়া বক্তব্য দেন সাবেক বিএনপি’র সভাপতি ফখরুল আলম, সাবেক পৌর মেয়র শফিকুল ইসলাম ফরিদ, পৌর বিএনপির সভাপতি কাজী কামাল, উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন তালুকদার,সাবেক সদস্য সচিব উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আল পিরুনী সৈকত, আরো অনেকে।
শোকসভা শেষে প্রতিমন্ত্রী মিয়ারহাট বন্দরে গত ১৫ মে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা বলেন, “অগ্নিকাণ্ডে আমাদের জীবিকার শেষ সম্বল পুড়ে গেছে। প্রতিমন্ত্রী সরেজমিনে এসে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, এতে আমরা নতুন করে আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। দ্রুত সরকারি সহায়তা পেলে আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারব।”
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের শেষে বলেন, “মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত নেতৃত্বের পরিচয়। শোকসভা শেষে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের খোঁজখবর নেওয়া ও সহায়তার আশ্বাস দেওয়ার মাধ্যমে প্রতিমন্ত্রী মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।”
গোলাম মোস্তফা-পিরোজপুর
০১৭১১৩৪০০৬৮
মন্তব্য করুন