লালবাগ থানা প্রতিনিধি
তুহিন ইয়াকুব
তিন কোটি মানুষের শহরে শনিবার বিকেলে একজন মানুষ একা দাঁড়িয়েছিলেন প্ল্যাকার্ড হাতে। সোহানী শিফা। স্লোগান: “ঢাকা বাঁচাও, হকার হটাও।”

Sohani Shifa বললেন, “আমি আজ ৬০ টাকা কেজি চাল খাচ্ছি। কাল যদি ১২০ টাকা কেজি চাল খেতে হয়, তখন কী করব?”
চালের সাথে হকারের সম্পর্ক কী? এখানেই গল্পটা মোড় নেয়।
সুনামগঞ্জের হাওরে সম্প্রতি হাজার হাজার বিঘা ধান ডুবে গেছে। কেন? প্রাকৃতিক দুর্যোগ তো বটেই, কিন্তু আসল সমস্যা শ্রমিক সংকট। ধান কাটার মানুষ নেই গ্রামে।
সোহানী বললেন, “গ্রামে গেলে দেখবেন, পুরুষ মানুষ নেই। তারা সবাই ঢাকায়। কেউ ফুটপাতে সবজি বিক্রি করছে, কেউ ফল বিক্রি করছে, কেউ অটোরিকশা চালাচ্ছে। কৃষিকাজের চেয়ে অটোরিকশা চালানো তাদের কাছে সহজ মনে হচ্ছে। এই সহজটা কি আমরা মেনে নিতে পারি?”
তিনি একটা উপমা দিলেন, “মশা যদি আপনাকে কামড়ায়, আপনি কি মশা মারবেন না? মশার তো রক্ত খাওয়ার অধিকার আছে, তা না হলে সে বাঁচবে কীভাবে? কিন্তু আপনার সেলফ প্রোটেকশনের জন্য আপনাকে মশা মারতেই হবে। ঠিক একইভাবে, হকার উচ্ছেদ করতেই হবে।”
তার বক্তব্য পরিষ্কার: হকারদের ঢাকা থেকে সরিয়ে তাদের গ্রামে, তাদের এলাকায় কৃষিকাজে পাঠাতে হবে। না হলে শ্রমিক সংকটে দেশের খাদ্য উৎপাদন ধসে পড়বে। চালের দাম আকাশছোঁয়া হবে।
সোহানী আরও বললেন, “এক দিন আগে উচ্ছেদ চলছিল, এক দিন পরে রাস্তায় মেশিন দিয়ে দাগ কাটা হলো। সরকারি রাস্তা, সরকারি মেশিন। কেন?”
শাহবাগের মোড়ে একা দাঁড়িয়ে সোহানী শিফা যে প্রশ্নগুলো তুলে ধরলেন, সেগুলো এড়ানো কঠিন। ধানক্ষেত ডুবছে, চালের দাম বাড়ছে, শ্রমিক সংকট গভীর হচ্ছে।
তিন কোটি মানুষের শহরে একজন মানুষ একা দাঁড়িয়ে বলে দিলেন, “হকার উচ্ছেদ করতেই হবে। ঢাকা বাঁচাতে হলে এটাই একমাত্র পথ।”
মন্তব্য করুন