কৃষ্ণকান্ত সেনের বিতর্কিত মৃত্যু নিবন্ধন টি বাতিল করেছে ৫নং রাধাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ
রনী আহম্মেদ, গোপালগঞ্জে সংবাদ দাতা –
কৃষ্ণকান্ত সেনের বিতর্কিত মৃত্যু সনদটি বাতিল করে , আবেদনকারী ও সুপারিশকারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ৫ নং রাধাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ ।
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার ৫ নং রাধাগঞ্জ ইউনিয়নে কৃষ্ণকান্ত সেনের নামে ইস্যুকৃত একটি মৃত্যু সনদকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া ধূম্রজালের অবসান ঘটিয়েছেন ৫ নং রাধাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভীমচন্দ্র বাগচী।
তদন্তে তথ্যের অসঙ্গতি পাওয়ায় বিতর্কিত ওই মৃত্যু সনদ বাতিল করা হয়েছে। বিতর্কিত এই মৃত্যু নিবন্ধনটি নিয়ে কোটালীপাড়া উপজেলা বাপি ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
জানা যায়,
রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের রাজিন্দারপাড় গ্রামের বেচারাম সেনের ছেলে ধ্রুব সেন গত ২০ মে ২০২৬ তারিখে তার কাকা কৃষ্ণকান্ত সেনের মৃত্যু সনদের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে আবেদন করেন।
যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদনটি অনলাইনে সম্পন্ন হওয়ার পর গত ২ জুন ২০২৬ তারিখে কৃষ্ণকান্ত সেনের নামে মৃত্যু সনদ ইস্যু করা হয়।
তবে সনদটি নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনার সৃষ্টি হলে বিষয়টি নিয়ে নিজ উদ্যোগে অনুসন্ধান শুরু করেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভীমচন্দ্র বাগচী।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কৃষ্ণকান্ত সেন দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাড়িতে অনুপস্থিত থাকলেও তিনি জীবিত না মৃত—এ বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকি তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কেও কেউ নিশ্চিত করে তথ্য দিতে পারেনি।
এ অবস্থায় তথ্যগত অসঙ্গতি ও বিতর্কের প্রেক্ষিতে গত ২২ জুন ২০২৬ তারিখে অফিস আদেশের মাধ্যমে মৃত্যু সনদটি বাতিল করা হয়।
ইউনিয়ন পরিষদ সচিব জহিরুল ইসলাম লিপ্টন বলেন, ওয়ার্ডের চৌকিদার নকুল বাডৈ ও লাভলু মেম্বার দুইজনের যাচাই-বাছাই এবং শনাক্ত করার পরে আমরা এই মৃত্যু নিবন্ধন টি দেই । এতে যদি কোন ভুল ভ্রান্তি থাকে তাহলে উক্ত ৮ নং ওয়ার্ডের চৌকিদার নকুল বাড়ৈ ও লাভলু মেম্বারের উপরে এই দায় বর্তায়। এই অফিসের সচিব ও চেয়ারম্যানের উপরে বর্তায় না ।
এদিকে আবেদনকারী ধ্রুব সেনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তার কাকার কোনো খোঁজ না পাওয়ায় তিনি ধারণা করেছিলেন যে তিনি হয়তো মারা গেছেন। সেই ধারণার ভিত্তিতেই মৃত্যু সনদের আবেদন করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে মৃত্যু নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারী ধ্রুবসেনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন , দীর্ঘদিন আমাদের সাথে আমাদের ককার কোন যোগাযোগ নাই। আর বেঁচে আছে কিনা আমরা জানিনা। অনেকদিন আমাদের সাথে যোগাযোগ না থাকার কারণে আমরা ধরে নিয়েছি সে মারা গেছে। তাই আমরা সম্পত্তি রক্ষার প্রয়োজনে বা আমার কাকার তেজ্য সম্পত্তি আমরা একমাত্র উত্তরাধিকারী হিসেবে ভোগ দখল করতে পারি সেজন্য আমি এই মৃত্যু নিবন্ধনটি এনেছিলাম । তিনি আরো বলেন যেহেতু সে বেঁচে আছে কিনা তা জানা যায়নি, তাই এই মৃত্যু নিবন্ধটি বাতিল হওয়ার কোন কারণ থাকতে পারে না ।
চেয়ারম্যান ভীমচন্দ্র বাগচী জানান,সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে জানতে পেরে, উক্ত মৃত্যু নিবন্ধন এর বিষয়টি বাতিল করার কার্যক্রম গ্রহণ করি । সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি। এ কারণে মৃত্যু সনদ বাতিলের পাশাপাশি আবেদনকারী ও সুপারিশকারী উভয়ের কাছেই কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
চেয়ারম্যান ভীমচন্দ্র বাগচী আরো বলেন, দীর্ঘদিন যাবত ৫ নং রাধাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদে সুনামের সাথে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমার এই সুনাম নষ্ট ও আগামী নির্বাচনে যাতে আমাকে জনগণের কাছে হেও প্রতিপন্ন করে, তাদের হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে, পিছন থেকে কেহ এ কাজ এই চৌকিদারকে দিয়ে করিয়ে থাকতে পারে ।
পরে অফিস আদেশের মাধ্যমে মৃত্যু সনদ বাতিল করে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরসহ জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে অবহিত করা হয়েছে বলে জানা জানান।
৮ নং ওয়ার্ডের চৌকিদার নকুল বাড়ৈ বলেন আমাকে ৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মহানন্দ আমাকে বলেছিল, কৃষ্ণকান্ত সেনের মৃত্যু নিবন্ধন টি দিতে পারো এতে কোন সমস্যা নাই । তাই আমি এই মৃত্যু নিবন্ধনটি সঠিক আছে বলে রেজিস্ট্রি ভুক্ত করে স্বাক্ষর করি।
ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বার লাভলু তালুকদারের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার এটা করা হলে তিনি মোবাইল ফোনটি রিসিভ করেননি, বিধায় এ বিষয়ে তার কাছ থেকে কোন প্রকার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি ।
মন্তব্য করুন